শংকরাচার্যবিরচিত জগন্নাথাষ্টকম বাংলা অর্থ সহকারে
আদি শঙ্করাচার্য খুবই অল্প বয়সে অনেক উন্নতমানের গ্রন্থ রচনা করে গিয়েছেন । পুরী দর্শনকালে আদি শংরাচার্য, ভগবান জগন্নাথের প্রশংসায় শ্রী জগন্নাথ অষ্টকম রচনা করেন। ভগবান জগন্নাথের স্তোত্রগুলির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ, এই অষ্টকমটি শ্রী চৈতন্য মহাপ্রভু জগন্নাথ মন্দির দর্শনকালে পাঠ করেছিলেন।
জগন্নাথাষ্টকম পাঠ করলে কি ফল লাভ হয়?
যত্নসহকারে এই পবিত্র জগন্নাথ অষ্টকম পাঠ করার পুণ্য এমন যে, ব্যক্তি পাপমুক্ত ও নির্মলচিত্ত হন এবং বিষ্ণুলোকে প্রবেশাধিকার লাভ করেন।
জগন্নাথাষ্টকম বাংলা অর্থ সহকারে
কদাচিৎ কালিন্দীতট-বিপিন-সঙ্গীত-তরলো মুদাভীরী-নারী-বদন-কমলাস্বাদ-মধুপঃ। রমা-শম্ভু-ব্রহ্মামরপতি-গণেশার্চিতপদো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
অর্থাৎ- "যিনি কখনও কখনও যমুনা-তীরস্থ বনমধ্যে সঙ্গীত গান করতে করতে ভ্রমরের মতো আনন্দে ব্রজগোপীদের মুখারবিন্দের মধু পান করেন এবং লক্ষ্মী, শিব, ব্রহ্মা, ইন্দ্র ও গণেশ প্রমুখ দেবদেবীগণ যাঁর চরণ-যুগল অর্চনা করে থাকেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন।"
ভুজে সব্যে বেণুং শিরসি শিখিপিচ্ছং কটীতটে দুকুলং নেত্রান্তে সহচর-কটাক্ষং বিদধতে। সদা শ্রীমবৃন্দাবন-বসতি লীলা-পরিচয়ো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
অর্থাৎ- "যিনি বাম হস্তে বেণু, শিরে শিখিপুচ্ছ, কটিতটে পীতাম্বর ও নয়ন-প্রান্তে সহচরগণের প্রতি কটাক্ষ ধারণ ক'রে সর্বদা শ্রীবৃন্দাবনে বাস ও লীলা করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন।"
মহান্তোধেস্তীরে কনক-রুচিরে নীলশিখরে বসন্ প্রাসাদান্তঃ সহজ-বলভদ্রেণ বলিনা। সুভদ্রা-মধ্যস্থঃ সকল-সুর-সেবাবসরদো জগন্নাথঃ স্বামী নযনপথগামী ভবতু মে।।
"যিনি মহাসমুদ্রের তীরে কনকোজ্জ্বল-নীলাচল-শিখরে প্রাসাদাভ্যন্তরে বলিষ্ঠ সহোদর শ্রীবলদেব সহ সুভদ্রাকে মধ্যে স্থাপনপূর্বক অবস্থান করছেন এবং সমস্ত দেবগণকে যিনি স্বীয় সেবা করবার সুযোগ প্রদান করেছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন্।"
কৃপা-পারাবারঃ সজল-জলদ-শ্রেণিরুচিরো রমা-বাণী-রামঃ স্ফুরদমল-পঙ্কেরুহ-মুখঃ। সুরেন্দ্রৈরারাধ্যঃ শ্রুতিগণশিখা-গীতচরিতো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
"যিনি দয়ার সাগর, সজল জলধরের মতো যাঁর অঙ্গকান্তি, যিনি লক্ষ্মী-সরস্বতীর সঙ্গে বিহার করছেন, যাঁর বদনমণ্ডল অমল কমলের ন্যায় শোভা পাচ্ছে, যিনি সমস্ত দেবগণের আরাধ্য-ধন এবং বেদ, পুরাণ, তন্ত্রাদি শাস্ত্রসমূহ যাঁর চরিত্র গান করছেন, সেই জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন্।
রথারূঢ়ো গচ্ছন্ পথি মিলিত-ভূদেব-পটলৈঃ স্তুতি-প্রাদুর্ভাবং প্রতিপদমুপাক্য সদয়ঃ। দয়াসিন্ধুবন্ধুঃ সকল-জগতাং সিন্ধু-সদয়ো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
অর্থাৎ- "রথে আরোহণ ক'রে গমন করতে থাকলে পথিমধ্যে ব্রাহ্মণগণ যাঁর স্তব করতে থাকেন এবং সেই স্তব শ্রবণ ক'রে যিনি পদে পদে প্রসন্ন হন, যিনি দয়ার সাগর, যিনি নিখিল জগতের বন্ধু এবং যিনি সমুদ্রের প্রতি সদয় হয়ে তদুপকূলে বিরাজ করছেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন্।"
আরো পড়ুন:- শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মী পূজাপদ্ধতি PDF
পরব্রহ্মাপীড়ঃ কুবলয়-দলোৎফুল্ল-নয়নো নিবাসী নীলাদ্রৌ নিহিত-চরণোহনন্ত-শিরসি। রসানন্দী রাধা-সরস-বপুরালিঙ্গন-সুখো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
অর্থাৎ- "যিনি পরমার্চনীয়, পরব্রহ্ম, যাঁর নেত্রযুগল নীল-কমলদলের ন্যায় উৎফুল্ল, যিনি নীলাচলে অবস্থান করছেন, যিনি অনন্তের শিরে পদার্পণ ক'রে রয়েছেন, যিনি প্রেমানন্দময় এবং যিনি শ্রীরাধিকার রসময়-দেহালিঙ্গনসুখে সুখী, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন্।"
ন বৈ যাচে রাজ্যং ন চ কনক-মাণিক্য-বিভবং ন যাচেহহং রম্যাং সকল-জন-কাম্যাং বরবধূম্। সদা কালে কালে প্রমথ-পতিনা গীত-চরিতো জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
অর্থাৎ-"আমি রাজ্য চাই না, স্বর্ণ-মাণিক্যাদি বৈভব চাই না, সর্বজনের স্পৃহণীয় সুন্দরী নারীও চাই না, কেবল এই চাই যে, প্রমথনাথ মহাদেব সর্বক্ষণ যাঁর চরিত্র গান করেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন-পথের পথিক হোন্।"
হর ত্বং সংসারং দ্রুততরমসারং সুরপতে! হর ত্বং পাপানাং বিততিমপরাং সাদবপতে! অহো দীনেহনাথে নিহিতচরণো নিশ্চিতমিদং জগন্নাথঃ স্বামী নয়নপথগামী ভবতু মে।।
"হে সুরপতে! অতি শীঘ্র আমাকে এ অসার সংসার থেকে উদ্ধার কর; হে যদুপতে! আমার দুঃসহ পাপভার বিমোচন কর। অহো! দীন ও অনাথ ব্যক্তিগণকে যিনি নিশ্চিতরূপে নিজ শ্রীচরণ সমর্পণ ক'রে থাকেন, সেই প্রভু জগন্নাথদেব আমার নয়ন, পথের-পথিক হোন।"
জগন্নাথাষ্টকং পুণ্যং যঃ পঠেৎ প্রযতং শুচিঃ। সর্বপাপ-বিশুদ্ধাত্মা বিষ্ণুলোকং স গচ্ছতি।।
ইতি শ্রীমদ্ শংকরাচার্যবিরচিতং জগন্নাথাষ্টকং সংপূর্ণং॥
এই আটটি শ্লোক জগন্নাথাষ্টক। এ থেকে স্পষ্ট প্রমাণিক হচ্ছে কৃষ্ণ ও জগন্নাথ অভিন্ন। সেই কৃষ্ণ সেই জগন্নাথ।
আরো পড়ুন:- কোন ৩ রাশির মানুষের প্রতি বজরঙ্গবলী সদয়!

0 মন্তব্যসমূহ